শিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন সংকটের পদধ্বনি:-

0
385

বাংলাদেশ এখন অনেক সম্ভাবনা, অনেক প্রত্যাশার কেন্দ্রে- দেশি-বিদেশি সব বিশেষজ্ঞই হয়তো এ বিষয়ে একমত। আরও একটি বিষয়ে কারও দ্বিমত নেই- শিক্ষাকে বিশ্বজনীন করতে হবে; দেশে বিনিয়োগের শ্রেষ্ঠ ক্ষেত্র হবে শিক্ষা। এজন্য শিক্ষার বাস্তবানুগ কারিকুলাম, যোগ্য শিক্ষক, প্রয়োজনমুখী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও শিক্ষানুকূল পরিবেশ দরকার।
সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় ঘটানোর মতো ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবকের মানসগড়নেও রূপান্তর জরুরি। কাক্সিক্ষত দক্ষতা অর্জনের পথে শর্টকাট পদ্ধতি, দুর্নীতি বা শ্রমবিমুখতা তাৎক্ষণিক লাভের সন্ধান দেখালেও পরিণামে শিক্ষার্থীকে সমকালীন বাজারে অপ্রাসঙ্গিক করে তুলবে- এ সত্যটি আজ অনেকেই উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার খোলনলচে পাল্টে ফেলে সময়ের চাহিদা মোকাবেলায় শিক্ষানীতি, আইন, পদ্ধতি, প্রযুক্তি, নৈতিক মান, রাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব, লিঙ্গসমতা, সর্বজনীন শিক্ষা- সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের লক্ষণ দৃশ্যমান।
ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তনের আভাস স্পষ্ট। তবুও সাম্প্রতিক সময়ে অর্জিত অনেক ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি বেশকিছু অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন করে অস্থিরতা ও হতাশা সৃষ্টি হচ্ছে- আর সেগুলোকে ঘিরে একদিকে যেমন জনমানসে উদ্বেগ ঘনীভূত হয়েছে, অন্যদিকে এ দুর্বলতাকে পুঁজি করে রাজনৈতিক সুবিধা হাতড়ে নেয়া মতলববাজিও চোখে পড়ছে।
স্বাধীনতা-উত্তরকালে বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর শিক্ষাঙ্গনে নকল, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এমনকি ’৭০-এর শেষে কিংবা ’৮০-র দশকে বিশ্ববিদ্যালয় বা বড় কলেজের সন্নিহিত এলাকার শিক্ষার্থীদের এক অংশকে সরাসরি ছিনতাই, লুটের মতো কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে দেখা গেছে। নকল শুধু পরীক্ষার হলে হয়নি, বাইরে থেকে উত্তরপত্র লিখে এনে মূল খাতায় যুক্ত করা হয়েছে।
উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও কিছু শিক্ষককে টাকার বিনিময়ে অথবা প্রভাব খাটিয়ে নম্বর পরিবর্তনের কথা শোনা গেছে। অনেক প্রধান পরীক্ষক, নিরীক্ষক উত্তরপত্রে মূল্যায়নোত্তর স্বাক্ষর করতে সংক্ষিপ্ততম চিহ্নটি বসিয়ে দিতে কষ্ট অনুভব করেছেন- মূল্যায়ন বা যাচাই তো দূরের কথা! ভর্তি, ফরম পূরণ, বদলি- এসব ক্ষেত্রে দুর্নীতি সীমা মানেনি।
এ চরম অব্যবস্থার পাশাপাশি মফস্বল ও শহরের মধ্যে শিক্ষাসেবায় চরিত্রগত পার্থক্য ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠেছিল। শহরে ক্লাস ও পাবলিক পরীক্ষা- অধিকাংশ ক্ষেত্রে মোটামুটি ভালো হয়েছে; গ্রামে সে আবহ ছিল অনেকটাই নাজুক। নব্য ধনিক শ্রেণির সন্তানরা হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া করেছে; অথবা বিদেশে পাঠিয়ে সন্তানদের সাহেবি ধাঁচে তৈরি করার চেষ্টা করেছে, গরিব মানুষের জায়গা হয়েছে মাদ্রাসায়, মধ্যবর্তী অংশ সাধারণ শিক্ষায়।
এরপর সমকালীন তারুণ্যের জন্য মানানসই কারিগরি শিক্ষার প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ দুর্ভাগ্যজনকভাবে শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অব্যবস্থার অধ্যায়ে নতুন মাত্রা যুক্ত করে। শিক্ষার্থীকে পাস না করালে পরীক্ষকের পরোক্ষ শাস্তি হয়েছে, পরীক্ষার হলে বিষয় শিক্ষককে ডেকে এনে সিলেবাস মিলিয়ে উত্তর লিখিয়ে নেয়া হয়েছে; এ খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। এমনকি ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হলেও এমন কদর্য চর্চার অবশিষ্ট কোথাও কোথাও এখনও টিকে থাকলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তবে অনস্বীকার্য যে, অতীতে যে কোনো মানদণ্ডে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর লেখাপড়ার মান ভালো ছিল।
পরীক্ষাগুলো ছিল যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য। শিক্ষার্থীকে লাইব্রেরি ঘেঁটে নম্বর পেতে হয়েছে। অর্থাৎ অধিকাংশ স্কুল-কলেজে শিক্ষার কৌলীন্যে কালির দাগ পড়লেও বিশেষ করে পাবলিক ভার্সিটিগুলোয় অন্তত লেখাপড়ার মানে এ মলিনতা স্পর্শ করতে পারেনি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আসার পর তীব্র বেকারত্ব, সমাজে বর্ধনশীল দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি শিক্ষার্থীকে হতাশ ও অনেক ক্ষেত্রেই আপসকামী করে তুলেছিল; যা পরবর্তী সময়ে তার কর্মক্ষেত্রে ও বৃহত্তর সামাজিক পরিসরে গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছিল বলে মনে হয়।
এখনকার পরিস্থিতি পাল্টেছে। শিক্ষাব্যবস্থায় কাঠামোগত বিভাজন ও সুযোগের বৈষম্য থেকে গেছে সত্য। তবে দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নকল কমে এসেছে। শহরে ভিন্ন কৌশলে অবৈধ সুযোগ বিনিময় হচ্ছে। গ্রামের স্কুল-কলেজে পড়াশোনা হচ্ছে। তবে শহরে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান কোচিং-গাইড সিন্ডিকেটের দখলে। এটা নতুন উপসর্গ। ডিজিটালাইজেশনের ফলে ভর্তি ফরম পূরণের ঝামেলা এখন নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেরা এখন ছিনতাই করে না।
প্যাকখোলা অস্ত্রের ঝনঝনানিও নেই। তবে ছাত্র রাজনীতি অনুশীলনে যে দেশাত্মবোধের অস্তিত্ব দু’দশক আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে টের পাওয়া যেত; তা এখন উধাও। ছাত্র রাজনীতিতে যারা এখন যুক্ত- অনেক ক্ষেত্রেই এরা মতলববাজ। ভবিষ্যতে কোনো সুবিধার আশায় এরা বিশেষ কোনো পতাকার নিচে জড়ো হয়েছে। কোনো কনভিকশন নেই। ছাত্র রাজনীতির এ দুর্দশার জন্য দায়ী মূল রাজনীতির আদর্শিক দেউলিয়াত্ব। বিত্তবৈভব বা কর্তৃত্বের কক্ষপথেই এরা আবর্তিত। ঔপনিবেশিক মনস্তত্ত্বের এ এক অবান্তর উত্তরাধিকার।
দেশের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সময়ে চলমান কিছু অস্থিরতা একটা বিশেষ প্যাটার্ন বা প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, স্কুল-কলেজ পরিচালনাকে কেন্দ্র করেও শিক্ষার্থী বা শিক্ষকের বিক্ষোভ চোখে পড়ছে। যেসব ইস্যুকে কেন্দ্র করে এসব প্রতিবাদ ঘনীভূত হয়েছে তা নিরঙ্কুশভাবে আদর্শ, সমষ্টি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রে দাবিগুলো ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও ক্ষমতার বৃত্তকেন্দ্রিক।
কাকতালীয় হলেও সত্য, দাবিগুলো প্রকৃতিগত বা প্রক্রিয়াগতভাবে অভিন্ন। তা সত্ত্বেও এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে কিছু জরুরি আলোচনা প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে যুগপৎ এমন আন্দোলন বা ছাত্র অসন্তোষ কিছু মৌলিক প্রশ্নও তুলে ধরে। সমস্যাগুলো একদিনে সৃষ্টি হয়নি। ইতিহাসের নানা বাঁক, চড়াই-উতরাই বা চোরাগলি পেরিয়ে আমরা আজকের সমাজভূমিতে পা দিয়েছি। সামরিক সরকার ক্ষমতাসীন থাকাকালে যেসব প্রবাদপ্রতিম ভিসিরা দায়িত্বপালন করেছেন- অনেককেই মনে করতে পারি, যে কোনো পরিমাপে তারা প্রতিষ্ঠানের সব অংশীজনের এমনকি গোটা দেশের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিলেন।
এমনকি যত বেশি আমরা অতীতমুখী হব- এক ধরনের হা-পিত্যেশ আমাদের মনোভূমিকে আচ্ছন্ন করবে; এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ব্রিটিশ কিংবা পাকিস্তান সামরিক শাসনের তুলনায় গেলে তৎকালীন বর্ণাঢ্য শিক্ষাবিদদের শ্রেষ্ঠত্ব, মহত্ত্ব প্রমাণ করা আরও সহজ হয়ে উঠবে। কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে গেলে সমসাময়িক সমাজ, অর্থনীতি ও বিশ্বব্যবস্থাসহ সার্বিক পটভূমি বিশ্লেষণ করা জরুরি। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা, চাহিদা, সামর্থ্য, শ্রেণি, জটিল আর্থ-সামাজিক কাঠামো ও রাজনৈতিক বাস্তবতা কোনোটাই অতীতের সঙ্গে মেলে না।
সে সময়ের সমাজ কিংবা আর্থিক বিন্যাস কোনোভাবেই এ সময়ের সঙ্গে যায় না। বিশ্ববিদ্যালয় এখন সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীর জায়গা নয়, ছাত্রছাত্রীদের শ্রেণিগত চরিত্র এখন পাল্টেছে। মফস্বলের বিরাট অংশ এখন শহরমুখী। উচ্চবিত্তের সন্তানরা এখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতে এমনকি আমলা হতেও আগ্রহী নয়। কর্পোরেট দুনিয়ায় তাদের আগ্রহ, বাণিজ্য বিস্তারের উপকারভোগী তারা। দেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বা বিদেশে লেখাপড়া তাদের পছন্দ।
যে বিষয়ে কোনো তর্ক নেই- তা হল প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার কাম্য মান অথবা নৈতিক মূল্যবোধ কোনোটাই বজায় থাকছে না। সেটা শুধু শিক্ষা নয়, আমলাতন্ত্র, চিকিৎসা, প্রকৌশল এমনকি রাজনীতি সর্বত্রই। বিশেষজ্ঞরা বলবেন, ব্যবস্থায় গলদ, বাজার অর্থনীতির এটাই মহিমা ইত্যাদি নানাভাবে ব্যাখ্যা চলতে থাকবে।
আশঙ্কার বিষয় হল, বিক্ষোভের অনৈতিক উপসর্গগুলো দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়লে নানা অশুভ স্বার্থগোষ্ঠী তৎপর হয়ে উঠতে পারে এবং সেক্ষেত্রে শিক্ষার পরিবেশ বিপন্ন হতে পারে। একাডেমিক শৃঙ্খলা ও শুদ্ধাচার বজায় রাখার প্রশ্নে শিক্ষককে যদি কোনো অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় এবং নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে তিনি যদি বৈরী পরিপার্শ্বের সঙ্গে আপস করে ফেলেন তখন শিক্ষাক্ষেত্রে অর্জিত অনেক অর্জনই মুহূর্তের মধ্যে ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে।
প্রাইমারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়- সবখানে প্রতিষ্ঠানবিরোধী বিক্ষোভকে গণমাধ্যমে সুবিধা দেয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর ও সংবেদনশীল। সমাজের ওপর এর অভিঘাত সুদূরপ্রসারী। আগেই বলেছি, শিক্ষা প্রশাসনে যারা আছেন তাদের অনেকেরই হয়তো দুর্বলতা বা সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে বা আছে। এ-ও অস্বীকারের উপায় নেই, তারা অনেক ক্ষেত্রে শব্দ প্রয়োগ, বাক্য চয়ন বা আচরণে পদের ভার রক্ষা করতে পারেননি; কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আমরা রাতারাতি এমন জায়গাগুলোকে নৈতিকভাবে বিশুদ্ধ ও দক্ষতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ ব্যক্তিদের দিয়ে পূরণ করতে পারব না।
আর যিনি এসব জায়গায় আসবেন, তিনি বিদ্যমান সমাজ বাস্তবতায় কতটা, কতদিন, কীভাবে পরিস্থিতি সামলাবেন তা গুরুত্ব দিয়ে ভাবা দরকার। নিকট অভিজ্ঞতা বলছে, কালোত্তীর্ণ শিক্ষকরাও বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। আসলে যে ক্ষয়িষ্ণু সামাজিক অনুশীলনের ধারায় ঘটনাগুলো ঘটছে, তাকে হঠাৎ করে আদর্শস্থানীয় অবস্থায় ফেরত নেয়া কঠিন, সময়সাপেক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি শুধু একটি পদ নয়, মহত্তর একটি ধারণা; যার মধ্যে নিহিত এক অতুলনীয় গরিমা। প্রথমত, চেষ্টা থাকবে যোগ্যতম ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য মনোনীত করা। দ্বিতীয়ত, তার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য স্বয়ংক্রিয় পৃথক ব্যবস্থা থাকতে হবে, যা নিরন্তর তার কাজের তদারকি করবে। তৃতীয়ত, প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, শুদ্ধতার আবহ যেন কোনো অন্যায্য ও কৌশলী অবস্থানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করা সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে অনেক দরকার বলে মনে হয়েছে।
পদগুলোকে প্রশাসনিকভাবে স্বাধীন বা স্বতঃসিদ্ধ ব্যবস্থার কাছে দায়বদ্ধ না করলে তারা স্বাভাবিকভাবেই ছাত্র বা শিক্ষক গ্রুপের খপ্পরে পড়ে যাবেন নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য। কোনো ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, আইনি প্রক্রিয়ায় যে কোনো অভিযোগ নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। দোষী ব্যক্তির শাস্তি দরকার; কিন্তু সমাজের বড় বা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির বিনিময়ে নয়।
কারণ, আমাদের সমাজে নিরপেক্ষতার এতই অভাব যে, অভিযুক্ত যদি প্রতিপক্ষ হয় তবে তাকে ঘায়েলের জন্য সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী ঘোলাজলে মাছ শিকারে মরিয়া হয়ে উঠবে। সরকারি বা বিরোধী দল- কোনো পক্ষের জন্য তো নয়ই, গোটা দেশের জন্যই এ বাস্তবতা দূরবর্তী বিপদের একটা আগাম সংকেত।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমাদের দেশের অগ্রগতি, সম্ভাবনা- এক কথায় জাতিগত অস্তিত্বের প্রতীক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এখানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা স্বল্পদর্শী কোনো ফায়দা লাভের মোহে শিক্ষককে হেয় করে বা শিক্ষকের মধ্যে দলাদলি সৃষ্টি করে বা ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়ে কোনোভাবেই লাভবান হওয়া যায় না; বরং দেশের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে নিয়ে আসে, যা পূরণের সুযোগ আমাদের হাতে অবশিষ্ট থাকে না।copy:-অমিত রায় চৌধুরী

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে